রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব ও ক্লাবের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

রিয়াল মাদ্রিদ সি.এফ. এর অফিসিয়াল লগো। 


রিয়াল মাদ্রিদ সি.এফ. : (Real Madrid C.F.)
পূর্ণ নাম : রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব দি ফুটবল (Real Madrid Club de Fútbol)
ডাকনাম : লস ব্লাঙ্কোস (সাদা), লস মেরেঙ্গুইস, লস গ্যালাক্টিকো (সুপার-স্টার)
প্রতিষ্ঠা : ৬ মার্চ ১৯০২ (১১২ বছর আগে)
মাঠ : সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, মাদ্রিদ, স্পেন (ধারণক্ষমতা: ৮৫,৪৫৪)
বর্তমান প্রেসিডেন্ট : ফ্লোরিন্তেনো পেরেজ
বর্তমান ম্যানেজার : জিনেদিন জিদান
লীগ : লা-লিগা


রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব (স্পেনীয় ভাষায়: Real Madrid Club de Fútbol রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব দি ফুতবোল) একটি  স্পেনীয় পেশাদার ফুটবল ক্লাব, যার অবস্থান স্পেনের মাদ্রিদে। এটি  বিংশ  শতাব্দীর সফলতম ক্লাব এবং ইউরোপের সবচেয়ে বেশি শিরোপা জেতা দল ।  রিয়াল  মাদ্রিদের নিজস্ব মাঠ মাদ্রিদে অবস্থিত সান্তিয়াগো বার্নাব্যু।


রিয়াল  মাদ্রিদ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে রেকর্ড ১০ বার এবং লা লিগা   জিতেছে রেকর্ড ৩২ বার। দলটির বিশ্রামে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে রিয়াল   মাদ্রিদ ক্যাস্তিলা নামে একটি ফুটবল দল । অন্যান্য ফুটবল দলের মত রিয়াল   মাদ্রিদের মালিকানা কখনো বদল হয়নি । এটি ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠা লগ্নের   সদস্যদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে। ২০০০ সালের ডিসেম্বর ২৩ তারিখে ফিফা   রিয়াল মাদ্রিদকে বিংশ শতাব্দীর জন্য শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দল পুরস্কার দেয়।   ক্লাবের ইতিহাসে এটিকে অনেক ডাকনামে ডাকা হয়েছে। প্রথমটি ছিল লস   মেরেঙ্গুয়েস, মেরিঙ্গু নামে একটি সাদা খাবার থেকে যেটির নামকরন করা   হয়েছে। পরে আসে লস ব্লাঙ্কোস। দুটি নামই ক্লাবের পুরো সাদা পোশাকের   প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৭০ দশকে এটির ডাকনাম লস ভাইকিংস জনপ্রিয়তা পায়, কারণ   কিছু উত্তর ইউরোপের কিছু খেলোয়াড়কে দলভুক্ত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক   সময়ে গণমাধ্যমে দলটি লস গ্যালাক্টিকোস বা মহাতারকা নামে পরিচিত কেননা   বিশ্বের অনেক দামী তারকা এখানে খেলেছেন। যেমন, রাউল, রোনালদো, বেকহাম,   জিদান, লুইস ফিগু, রর্বাতো কার্লোস আরও অনেকে।

লস গ্যালাক্টিকোসের প্রথম যুগের তারকারা।
ব্যকহাম, ফিগো, জিদান, রাউল, রোনালদো লিমা ।

বর্তমান তারকাদের মধ্যে রোনালদো, গ্যারেথ বেল, পেপে, বেনজামা, রামোস, হামেস রড্রিগেজ, ক্রুস, ক্যাসিয়াস অন্যতম ।
২০১৪ এর গ্যালাক্টিকোস যুগ।
ক্রুস, মদ্রিচ, বেল, বেনজেমা, হামেস, রোনালদো এবং নাচো।

রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব ডি ফুটবল স্পেনের পুরাতন ক্লাব গুলোর  মধ্যে  একটি। এর পুর্বে ক্লাবের নাম ছিল "নিউ ফুটবল ক্লাব ডি মাদ্রিদ" এবং  একই  শহরের আরেক ক্লাবের নাম ছিল "ক্লাব ইস্পানিয়ল ডি মাদ্রিদ"। 
রিয়াল  মাদ্রিদ" মূল ক্লাব টি গঠন হয় ৬ মার্চ ১৯০২ সালে। তখন এই ক্লাবের  প্রধান  ছিল জুয়ান পাদ্রস। এই ক্লাব টি এথলিটিক বিলবাওকে হারিয়ে প্রথম কাপ  টি  জিতে। আর কাপ টি ছিল কোপা ডেল রে বা স্পানিশ কাপ। কোপা ডেল রে ইতিহাসে   সবচেয়ে বড় ব্যাবধানে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা   কে ১১-১ গোলে হারায়। খেলা টি হয় ১৩ই জুন,১৯৪৩ সালে ।

মাঠ:
সান্তিয়াগো বার্নাব্যু কপর্দকহীন ভূমি ২৭ অক্টোবর ১৯৪৪ উন্মোচন ১৪   ডিসেম্বর ১৯৪৭ স্থপতি ম্যানুয়েল মুনজ মনাস্তেরিও, লুইজ আলেমারি সোলের,   আন্টনিও ল্যামেলা ধারণক্ষমতা ৮৫,৪৫৪ ।
মাঠের আয়তন :  ১০৭ মি × ৭২ মি (৩৫১ ফু × ২৩৬ ফু)
প্রাথমিক  অবস্থায় অর্থাৎ ১৯১২ সাল নাগাদ Campo de O'Donnell রিয়াল  মাদ্রিদের হোম  গ্রাউন্ড হিসেবে প্রায় ১১ বৎসর ব্যবহার হয়ে আসছিলো,কিন্তু  এরপরে  ক্লাবটি ১ বৎসরের জন্য Campo de Ciudad Lineal নামক স্টেডিয়ামে চলে  আসে  যার ধারণ ক্ষমতা ছিল মাত্র ৮০০০ ফলে ক্লাবটি পরে আবার Estadio  Chamartín  নামক স্টেডিয়ামে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে হোম ম্যাচ গুলো  আয়োজন করে  আসছিলো। স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ২২৫০০ জন। উল্লেখ্য  ক্লাবটি এই  স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম স্প্যানিশ লীগ জিতেছিল। পরে ১৯৪৩  সালে ক্লাবটির  চেয়ারম্যান নির্ধারণ করেন যে Estadio Chamartín ক্লাবটির  হোম ম্যাচ গুলো  আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত নয় যার ফলে ১৯৪৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর  ক্লাবটি একটি  নতুন মাঠের নির্মাণ কাজ শুরু করে যা ১৯৫৫ সাল থেকে  সান্তিয়াগো  বার্নাব্যু নামে পরিচিত হয়। ক্লাবটি এই স্টেডিয়ামে পর্তুগিজ  ক্লাব  Belenenses এর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলে এবং ৩-১ এ জেতে।
১৯৫৩  সালে  স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা ১,২০,০০০ তে উন্নীত করা হয় । এ সময়  ক্লাবটি  UEFA এর যথেষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বে অতিরি ক্ত অর্থ ব্যয়  কিছুটা  প্রতিরোধ করে। ২০১১ সাল নাগাদ স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা কমিয়ে  ৮৫,৪৫৪ জন  করা হয় এবং একটি সঙ্কোচনীয় ছাদ যোগ করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা  করা হয় ।  বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, এফসি বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের  পরে  রিয়াল মাদ্রিদই ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব যার গড় ধারণ ক্ষমতা চতুর্থ   সর্বোচ্চ।
স্যান্তিয়াগো বার্নাব্যু (রিয়াল মাদ্রিদের হোম গ্রাউন্ড) 

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ১৯৬৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ   ফাইনাল, ১৯৮২ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল, ১৯৫৭, ১৯৬৯ এবং ১৯৮০ ইউরোপিয়ান কাপ   ফাইনাল এবং ২০১০ চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামটির ১০ম   লাইন বরাবর নিজস্ব মাদ্রিদ মেট্রো স্টেশন আছে যা দর্শকদের বারতি সুবিধা   যোগাচ্ছে। ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর স্টেডিয়ামটি UEFA কর্তৃক এলিট ফুটবল   স্টেডিয়াম হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০০৬ সালের ৯ মে থেকে Ciudad Real Madrid   এর একটি অংশ আলফেড্র ডি স্টিফানো স্টেডিয়ামটি রিয়াল মাদ্রিদের যুবদল   রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাস্তিলা এর জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে যার ধারন ক্ষমতা   ৫০০০।এর নামকরন করা হয় রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক খেলোয়াড় ডি স্টিফানো এর   নামানুসারে। রেকর্ড রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব বিংশ শতাব্দীর সফলতম ক্লাব।   যুগে যুগে অনেক মহাতারকা এখানে খেলেছেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদের যুব  প্রকল্প  থেকে উঠে আসা খেলোয়াড় রাউল গঞ্জালেস্ আর সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন।  রিয়াল  মাদ্রিদের হয়ে তিনি সর্বোচ্চ ৭৪১ টি ম্যাচ খেলেন এবং সর্বোচ্চ ৩২৩  টি গোল  করেন। দল হিসেবে অনুষ্ঠিত আসর গুলোর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ রেকর্ড  ১০ বার  উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ (ইউরোপের ক্লাব পর্যায়ের শীর্ষ দলগুলোকে  নিয়ে  অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা) শিরোপা জিতেছে। এছাড়া ও  স্প্যানিশ লা  লিগা জিতেছে রেকর্ডসংখ্যক ৩২ বার।


রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের অর্জিত ট্রফিঃ


ঘরোয়া:

লা  লিগা বিজয়ী (৩৩) বার: ১৯৩১-৩২, ১৯৩২-৩৩, ১৯৫৩-৫৪, ১৯৫৪-৫৫, ১৯৫৬-৫৭,   ১৯৫৭-৫৮, ১৯৬০-৬১, ১৯৬১-৬২, ১৯৬২-৬৩, ১৯৬৩-৬৪, ১৯৬৪-৬৫,১৯৬৬-৬৭,   ১৯৬৭-৬৮,১৯৬৮ ৬৯,১৯৭১-৭২, ১৯৭৪-৭৫, ১৯৭৫-৭৬, ১৯৭৭-৭৮, ১৯৭৮-৭৯, ১৯৭৯-৮০,   ১৯৮৫-৮৬, ১৯৮৬-৮৭, ১৯৮৭-৮৮, ১৯৮৮-৮৯, ১৯৮৯-৯০, ১৯৯৪-৯৫, ১৯৯৬-৯৭, ২০০০-০১,   ২০০২-০৩, ২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮, ২০১১-১২, ২০১৬/১৭
২০১৬/১৭ মৌসুমের লা লিগা জয় উৎযাপনের মূহুর্ত। 

রানার্স আপ (২২) বার :   ১৯২৯,১৯৩৩-৩৪, ১৯৩৪-৩৫, ১৯৩৫-৩৬, ১৯৪১-৪২, ১৯৪৪-৪৫, ১৯৫৮-৫৯, ১৯৫৯-৬০,   ১৯৬৫-৬৬, ১৯৮০-৮১, ১৯৮২-৮৩, ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯১-৯২, ১৯৯২-৯৩, ১৯৯৮-৯৯, ২০০৪-০৫,   ২০০৫-০৬, ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১২-১৩, ২০১৫/১৬
কোপা দেল রে  বিজয়ী (১৯) বার : ১৯০৫, ১৯০৬, ১৯০৭, ১৯০৮, ১৯১৭,১৯৩৪, ১৯৩৬, ১৯৪৬, ১৯৪৭,  ১৯৬১-৬২, ১৯৬৯-৭০, ১৯৭৩-৭৪, ১৯৭৪-৭৫, ১৯৭৯-৮০, ১৯৮১-৮২,১৯৮৮-৮৯, ১৯৯২-৯৩,  ২০১০-১১, ২০১৩-১৪
রানার্স আপ (২০) বার : ১৯০৩, ১৯১৬, ১৯১৮,  ১৯২৪,১৯২৯, ১৯৩০, ১৯৩৩,  ১৯৪০,১৯৪৩, ১৯৫৮, ১৯৫৯-৬০, ১৯৬০-৬১, ১৯৬৭-৬৮,  ১৯৭৮-৭৯, ১৯৮২-৮৩, ১৯৮৯-৯০,  ১৯৯১-৯২, ২০০১-০২, ২০০৩-০৪, ২০১২-১৩
সুপারকোপা ডি এসপানা বিজয়ী (১০) বার : ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯৩, ১৯৯৭, ২০০১, ২০০৩, ২০০৮, ২০১২, ২০১৭ 
সুপার কোপা দে স্পেনা ২০১৭ এর ট্রফি জয়ের উৎযাপন। 

রানার্স আপ (৫) বার : ১৯৮২,১৯৯৫, ২০০৭, ২০১১, ২০১৪
কোপা এভা দুয়ার্তে বিজয়ী (১) বার : ১৯৪৭
কোপা ডি লা লিগাবিজয়ী (১) বার : ১৯৮৪-৮৫
রানার্স আপ (১) বার: ১৯৮২-৮৩


ইউরোপিয়ঃ

উয়েফা  চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী (১২) বার : ১৯৫৫-৫৬, ১৯৫৬-৫৭, ১৯৫৭-৫৮,  ১৯৫৮-৫৯,  ১৯৫৯ ৬০, ১৯৬৫-৬৬, ১৯৯৭-৯৮, ১৯৯৯-০০, ২০০১-০২, ২০১৩-১৪, ২০১৫/১৬, ২০১৬/১৭ 
২০১৬/১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস জয়ের বুনো উল্লাস। 

রানার্স আপ (৩) বার : ১৯৬১-৬২, ১৯৬৩-৬৪,১৯৮০-৮১
উয়েফা কাপ বিজয়ী (২) বার : ১৯৮৪-৮৫, ১৯৮৫-৮৬
উয়েফা কাপ উইনারস কাপ রানার্স আপ (২) বার : ১৯৭০-৭১, ১৯৮২-৮৩
উয়েফা সুপার কাপ বিজয়ী (৪) বার : ২০০২, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭
ইউয়েফা সুপার কাপ ২০১৭ এর ট্রফি সেলিব্রেশন। 

রানার্স আপ (২) বার : ১৯৯৮, ২০০০

বিশ্বঃ
ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপ বিজয়ী (৩) বার : ১৯৬০, ১৯৯৮, ২০০০
রানার্স আপ (২) বার : ১৯৬৬, ২০০০
ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ (৩) বার: ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭
ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৭ এর জয় উল্লাস ।

ক্লাবটির স্লোগান হচ্ছেঃ Hala Madrid (আলা মাদ্রিদ) |
—————————————————
লেখক:- Monir Hossain
—————————————————

Comments