কার্লোস হ্যানরিক ক্যাসেমিরো (দ্যা ট্যাঙ্ক)



কার্লোস হেনরিক জোসে ফ্রান্সিসকো ভ্যানেন্সিও ক্যাসেমিরো। আমরা সবাই তাকে "ক্যাসেমিরো" নামেই চিনি। ১৯৯২ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারী। ব্রাজিলের সাও পাওলোর সাও জোসে দোস কাম্পোসে সারভান্ডো ক্যাসেমিরো এবং ফারিয়া ক্যাসেমিরোর কোল জুড়ে আসলো তাদের প্রথম সন্তান।
ব্রাজিলের অন্যসব বেশিরভাগ তারকা ফুটবলার এর মতো তার ছোটকাল টাও ছিলো দারিদ্র্যতায় ভরা। খাড়ার উপর মরার ঘা হয়ে আসে যখন ক্যাসেমিরোর বয়স মাত্র ৫ বছর তখন তার বাবা-মা এর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। 


তার ছোট দুই ভাইবোন আছে, লুকাস ক্যাসেমিরো এবং বিয়ান্সা ক্যাসেমিরো। তার মা এর শত ত্যাগেই ক্যাসেমিরো আজকে এই অবস্থানে আছেন। তাই ক্যাসেমিরো সবসময় তার মা কে সুপার মম বলেন। 


তার মা তাকে স্কুলে ভর্তি করান। ক্যাসেমিরো স্কুলের পাশাপাশি ফুটবলও খেলতে শুরু করে। তারপর তিনি সাও পাওলো একাডেমী তে খেলার সুযোগ পান। ১১ বছর বয়সে সাও পাওলো এফসির যুবদলে যোগ দেন ক্যাসেমিরো। 
২০০৮ সালে অনূর্দ্ধ -১৭ বিশ্বকাপের পারর্ফম্যান্স দিয়েই মূলত টাইমলাইটে আসেন তিনি। ২০১২ সালে সাও পাওলোর হয়ে কোপা সুদামেরিকায় তার দুর্দান্ত পারর্ফম্যান্স তাকে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের হটকেক বানিয়ে দেয়।


২০১৩ সালের জানুয়ারিতে লোনে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ বি টিমে লোনে আসেন। ২০১৪ সালে নিজের থেকে বয়সে ৩ বছরের বড় ব্রাজিলিয়ান মেকআপ আর্টিস্ট এনা মারিয়ানা ওর্তেগা কে বিয়ে করেন ক্যাসেমিরো। এই দম্পতির সারা ক্যাসেমিরো নামে একটি মেয়ে আছে। ১৪ বছর বয়সে হেপাইটিস ধরা পড়ে ক্যাসেমিরোর। এই সময় তার স্বাস্থ্য ফুটবল খেলার মতো ফিট ছিলো না। তিনমাস ট্রেনিং থেকে দূরে ছিলেন তিনি। এই তিনমাসকে দুঃস্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শত বাধা পার হয়ে তিনি আজকের অবস্থানে আসেন। 

ব্রাজিলের হয়ে ক্যাসেমিরো। 

রিয়াল বি টিমে যোগ দেওয়ার মৌসুমেই রিয়ালের মূল টিমে অভিষেক হয় তার। ২০ এপ্রিল ২০১৩ তে রিয়াল বেটিসের সাথে ম্যাচে অভিষেক হয় ক্যাসেমিরোর। ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতে রিয়াল মাদ্রিদ। 
২জুন এডি এলার্কন এর সাথে রিয়ালের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ক্যাসেমিরো। এরপর ১০ জুন তার সাথে ১৮.৭ মিলিয়নে ৪ বছরের জন্য চুক্তি করে রিয়াল মাদ্রিদ।

২০১৪ এর জুলাইয়ে তাকে পোর্তো তে লোনে পাঠায় রিয়াল। পোর্তোর হয়ে ৪০ টি ম্যাচ খেলেন ক্যাসেমিরো। 


১০ ই মার্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে বাসেল এর বিপক্ষে ফ্রি কিকে একটি দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। 
২০১৫ এর জুনে লোন শেষে রিয়ালে ব্যাক করেন তিনি। এরপর রিয়াল তার সাথে ২০২১ সাল পর্যন্ত চুক্তি রিনিউ করে।

রাফায়েল বেনিতেজের আমলে বেশিরভাগ সময় বেঞ্চে কাটালেও জিনেদিন জিদানের সময় তিনি হয়ে উঠেন দলের অপরিহার্য্য অংশ। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে বর্তমান বিশ্বের সেরা একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

২০১৫-২০১৬ সালে দলকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। 
২০১৬-১৭ মৌসুমে লা লিগায় ২৫ ম্যাচে ৪ গোল করে দলকে লা লিগা জিতাতে সহায়তা করেন তিনি। 
২০১৬-১৭ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তার লং রেঞ্জের গোল রিয়ালকে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতে রেকর্ড ১২ তম বারের মত চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতাতে সাহায্য করে।


রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৩/১৪ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। 

রিয়ালের হয়ে এখন পর্যন্ত সব কম্পিটিশন মিলিয়ে ১৩৫ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন তিনি। ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় ক্যাসেমিরোর। ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়।
সাও পাওলোর হয়ে ২০১২ সালে সুদামেরিকানা জিতেন তিনি। 
রিয়ালের হয়ে ২০১৬-১৭ সালে লা লিগা, 

২০১৩-১৪ সালে কোপা দেল রে, 

২০১৭ সালে স্প্যানিশ সুপার কোপা, 
২০১৩-১৪, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, 

ইউয়েফা সুপার কাপ ২০১৬। 

২০১৬, ২০১৭ সালে উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ ও জিতেন তিনি। 

তাছাড়া ব্রাজিলের হয়ে ২০১১ সালে দক্ষিণ আমেরিকান যুব চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফিফা অনূর্দ্ধ ২০ বিশ্বকাপ জিতেন তিনি। 

২০১৬-১৭ সালে জায়গা পান উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা একাদশে।

মেকলেলে পরবর্তী যুগে রিয়াল যখন একজন সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এর খোঁজে ছিলো তখনই আবির্ভাব হয় ক্যাসেমিরোর। রিয়ালের হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বর্তমান বিশ্বের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। 


কান্তে, বুস্কেটস থাকার পরও অনেকেই তাকে বর্তমান বিশ্বের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেন।
বিপক্ষে টিমের সেরা খেলোয়াড়কে পকেট বন্দী করে খেলার গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে খুবই দক্ষ তিনি। তাছাড়া বিপক্ষ টিমের আক্রমণ গুলো মাঝমাঠে শেষ করে দিতেও তার মতো আরেকজন খুঁজে পাওয়া দুস্কর। 


আশা করি রিয়ালকে এভাবেই আরও কয়েক মৌসুমে সার্ভিস দিয়ে যাবেন তিনি। নিজেকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করবেন সর্বকালের সেরা একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে।
ভালো থাকুন আমাদের ট্যাংক "ক্যাসে।"
Written By:- Mahmud A Hasan.

Comments