মার্কো এসেন্সিও উইলিয়ামসন ও তার বেড়ে উঠার গল্প

১৯৯৬ সালের ২১ জানুয়ারি। ডাচ মারিয়া মার্গিরিটা উইলিয়ামসন আর স্প্যানিশ গিলবার্তো এসেন্সিও এর কোলজুড়ে এলো তাদের দ্বিতীয় পুএ সন্তান। গিলবার্তো তার ওয়াইফকে বললেন নামটা তুমিই রাখো। একটু কালক্ষেপণ করে মার্গারিটা নিজ দেশের সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার মার্কো ফন বাস্তেন এর নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখলেন " মার্কো এসেন্সিও উইলিয়ামসন"। যেহেতু গিলবার্তো নিজেও একজন ফুটবলার ছিলেন তাই এসেন্সিও এর জীবনের প্রথম গিফট টাই ছিলো ফুটবল। একদিন উইলিয়ামসন ফ্যামিলি ঘুরতে বের হলো। পথে একটা বোট দেখলেন তারা। বোটটা আর কারও না স্বয়ং রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরোন্তিনো পেরেজ এর। এসেন্সিও মা তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং এসেন্সিও কে দেখিয়ে দিয়ে বললেন একদিন আমার এসেন্সিও ও রিয়ালের হয়ে খেলবে। সেদিন থেকেই এসেন্সিও নিজেকে গ্যাল্যাকটিকোদের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। এসেন্সিও এর বাবা এথল্যাতিক বিলবাও এর ফরোয়ার্ড ছিলেন। তার বড় ভাই ইগোর এসেন্সিও ডি কালভিয়ার ডিফেন্ডার হিসেবে এখোনো খেলছেন। ২০১৬ সাল থেকে স্প্যানিশ সুন্দরী মারিয়া মুন্তেনার সাথে চুটিয়ে প্রেম করছেন এসেন্সিও। ২০০৩ সালে তার বড় ভাইয়ের বর্তমান টিম ও তাদের এলাকার স্থানীয় ক্লাব ডি কালভিয়ার হয়ে ইয়ুথ ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০৬ সালে তিনি যোগ দেন মাল্লোরকা তে। ২০০৬-২০১৩ তে মাল্লাকোরাতেই ছিলেন তিনি। মাল্লোরকা মূল টিমের হয়ে ৩৭ টি ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০১৪ সাল, মাল্লোরকার এই ইয়ং ট্যালেন্ট কে কিনতে আগ্রহী স্পেনের সবচেয়ে বড় দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। এসেন্সিও এর জন্য মাল্লেকরো ১.৫ মিলিয়ন অফার করে। এক শীতের সকালে এসেন্সিও এর এজেন্ট তাকে বললো তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। এসেন্সিও বললো কী সারপ্রাইজ? ফ্লোরোন্তিনো পেরেজ আমাকে ফোন দিয়েছিলো সে তোমার ব্যাপারে আগ্রহী। কথাটা শুনে যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারলেন না। যেই টিমের হয়ে খেলাটা তার স্বপ্ন। সেই টিমই তাকে সাইন করাতে চায়। ছোটবেলায় খেলা দেখে বড় হয়েছেন জিদান এর। সেই জিদানের দলের হয়ে খেলবেন। রোনালদো, রামোস, মার্সেলোরা হবেন তার টিমমেট। কোন কালক্ষেপণ না করেই সাথেই রাজি হয়ে গেলেন তিনি। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন " আমি সবসময় জিদান এর মতো খেলতে চাইতাম। তার পোস্টার আমার শোয়ার রুমে টানানো থাকতো। আমি খুবই সৌভাগ্যাবান যে এখন সে আমার কোচ" সিজন শেষেই তাকে ৩.৯ এ কিনে নেয় সর্বকালের সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। মাদ্রিদে গিয়ে সাইন করলেন এসেন্সিও। ঘুরে দেখলেন সান্তিয়াগো বুন্যার্বু ও ভালদেবেবাস। ২০১৪ সালে রিয়ালে আসলেও লোনে আরও এক মৌসুম থেকে গেলেন মাল্লোকরা তে। পরের মৌসুমে তাকে লোনে পাঠানো হলো এস্পানিওল এ। ২০১৫-১৬ মৌসুমে এস্পানিওল এর হয়ে ৩৪ টি ম্যাচ খেলেন এসেন্সিও। ৩৪ ম্যাচে ৪ টি গোল করেন তিনি। ২০১৬ সালের ৯ এ আগস্ট। রিয়ালের হয়ে সেভিয়ার বিপক্ষে উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে ২৫ মিটার দূর থেকে তার দূর পাল্লার শটে অভিষেকেই গোল করেন এসেন্সিও। ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতে উয়েফা সুপার কাপ জিতে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ২১ আগষ্ট রিয়াল সোদিয়াদের বিপক্ষে লা লিগায় অভিষেক হয় তার। দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। রিয়াল ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতে। রিয়ালের হয়ে লা লিগায় ২০১৬-১৭;মৌসুমে ২৩ ম্যাচ মাঠে নামেন এসেন্সিও। ৩ টি গোল করেন। ২০১২ সালের পর আবারও লা লিগা জিতে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। এই মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জিতে রিয়াল। দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন এসেন্সিও। ২০১৭-১৮ মৌসুমে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে ক্যাম্প নু তে ৩-১ গোলে জয় পায় রিয়াল। ২৫ মিটার দূর থেকে তার করা আকর্ষনীয় গোল প্রায় ৯০ হাজার কিউলকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি প্রমাণ করেদেন কেন তাকে বর্তমান বিশ্বের ইয়ং ট্যালেন্টদের সেরাদের একজন বলা হয়। ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রিয়ালের সাথে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চুক্তি রিনিউ করেন এসেন্সিও। রিলিজ ক্লজ ধরা হয় ৪৪২ মিলিয়ন ইউরো! ২০১৫ সালে নরওয়ের বিপক্ষে স্পেনের অনূর্দ্ধ ২১ দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। ২০১৬ এর ২৯ মে সুইজারল্যান্ড এর বিপক্ষে স্পেন জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় এই বিস্ময় বালকের। ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতে স্পেন। রিয়ালের হয়ে লা লিগায় এখন পর্যন্ত ৩৯ ম্যাচে ৭ গোল ও ১০ টি এসিস্ট করেছেন তিনি। তাছাড়া সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৭ ম্যাচে ১৮ গোল করেছেন তিনি। রিয়ালের হয়ে এখন পর্যন্ত একটি লা লিগা, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুইটি উয়েফা সুপার কাপ, একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ ও দুইটি ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেন তিনি। তাছাড়া ২০১৫ সালে স্পেনের হয়ে অনূর্দ্ধ -১৯ ইউরো জিতেন তিনি। এই ইউরোর সেরা খেলোয়ারও নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমান ইয়ং ট্যালেন্টদের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বারবারই নিজেকে প্রমাণ করেছেন যে হারিয়ে যেতে তিনি আসেননি। তার হয়ে জ্বলতেই এসেছেন। হাসিমাখা মুখটা আরও প্রজ্জলিত হয়ে জ্বলুক সান্তিয়াগো বুন্যাবুতে।শেষ করবো জিনেদিন জিদান এর একটা কথা দিয়ে " মেসির পরে বর্তমান বিশ্বে সেরা বা পায়ের সেরা ফুটবলার মার্কো এসেন্সিও"
Written by: Mahmud  Hasan

Comments