খেলোয়াড় পরিচিতি পর্ব - ৩ ( জিদান ) * মাতেও কোভাচিচ - ১৬ *
♣ পার্সোনাল ইনফর্মেশন
♣ জাতীয় দল - ক্রোয়েশিয়া বর্তমান ক্লাব - রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমান জার্সি নাম্বার - ১৬ জন্ম - ৬ই মে, ১৯৯৪; অস্ট্রিয়ার লিঞ্জ শহরে ( ২৫ বছর ) উচ্চতা - ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি প্লেয়িং রুল - মিডফিল্ডার প্লেয়িং পজিশন - এট্যাকিং মিডফিল্ডার , ডিপ লাইয়িং প্লেমেকার ।
♣ টিম ইনফর্মেশন
♣ ইয়ুথ ক্যারিয়ার - ২০০০-২০০৭ → লাস্ক লিঞ্জ ২০০৭-২০১০ → ডায়নামো জাগরেব সিনিয়র ক্যারিয়ার - ২০১০-২০১৩ - ডায়নামো জাগরেব ২০১৩-২০১৫ - ইন্টার মিলান ২০১৫-[বর্তমান] - রিয়াল মাদ্রিদ ন্যাশনাল টিম- ২০১৩ - বর্তমান বয়স ভিত্তিক জাতীয় দল - ২০০৮-২০১৩ ( ৫ টি বয়স ভিত্তিক দল ) ৬ বছরের একটা ছেলে তখনো ভাল করে কথা বলাই শিখে নাই তখন থেকেই পায়ে ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকতো । বাড়ির সদস্যদের সাথে যখন খেলতেন তখন যার কাছেই বল দিতে বলা হত তার কাছেই পারফেক্টলি বল দিতে পারতেন । ছেলের ফুটবলের প্রতি এত টান দেখে ২০০০ সালে মাত্র ৬ বছর বয়সে ছেলেকে ভর্তি করালেন লাস্ক লিঞ্জ ক্লাবের জুনিয়র একাডেমিতে । ট্রায়ালে টিকে যাওয়ার পর লিঞ্জ ক্লাবের জিনিয়াস প্লেয়ারদের দলভুক্ত করা হয় কোভাচিচকে । অস্ট্রিয়াতে জন্ম হলেই বসনিয়ান ক্রোট পিতামাতার কারনে ছোট বয়সেই বসনিয়াতে পাড়ি জমান তারা, পরে ক্রোয়েশিয়াতেই স্থায়ী হন । ২০০৭ সালে কোভাচিচ যখন মাত্র ১৩ বছরের একজন কিশোর তখনই কোভাচিচ স্কাঊটিং এ নজরে পড়েন আয়াক্স , ইন্টার মিলান , জুভেন্টাস , বায়ার্ন মিউনিখ সহ বেশ কয়েকটি ক্লাবের। কিন্তু সেসময় তার পরিবারকে ইনস্ট্যান্টলি জাগরেবে মুভ করতে হয় বলে কোভাচিচকে যোগ দিতে হয় ডায়নামো জাগরেবে। সুসময়ের মাঝেই ছন্দ পরিবর্তন , জাগরেবে খেলার সময়েই ২০০৯ সালে মারাত্মক ইনজুরির শিকার হন তিনি । কিছুদিন আগে পা ভেঙ্গে যাওয়া ডেম্বাবার মতই তার পাও ভেঙ্গে যায় , ক্যারিয়ার নিয়েই সংশয় ছিল কিন্তু ২০১০ সালের ৩১ মেতেই আবারো মাঠে ফিরে আসেন ইন্টার মিলানের এই ফলস নাইন প্লেয়ার। ২০১০-১১ সিজনের ২০ই নভেম্বর তার অভিষেক হয় ২য় বিভাগের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে ড্রাগোভুলজাকের বিপক্ষে যে ম্যাচে দলের ৬ গোলের ৪ টি করেন কোভাচিচ । অভিষেকে এরকম পারফর্মেন্স খুব বিরল কারন সেসময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ১৯৮ দিন । সে মৌসুমে মাত্র ৭ টি ম্যাচ খেললেও জিতেছেন লীগ শিরোপা। পরের মৌসুমে দলে নিয়মিত হন । ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে লেফট মিড হিসেবে খেলেন সে সময়। জাগরেবের মূল দলের হয়ে ৭৩ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন করিয়েছেন অনেক গোল । ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ১৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইন্টার মিলানে যোগ দেন তিনি । সিজন শেষে তাকে স্নাইডারের ১০ নাম্বার জার্সি দেওয়া হয় । ইন্টার মিলানের ৩ বছরে ৯৭ম্যাচে ৮ গোল করেছিলেন কোভাচিচ । ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট রবার্ট মানচিনি কনফার্ম করেন যে ফাইনান্সিয়াল ফেয়ার প্লের কারনে ইন্টার রিয়ালের কাছে কোভাচিচকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ২ দিন পরেই রিয়াল সেটি কনফার্ম করে জানায় ২৯ মিলিয়ন ইউওরোতে কোভাচিচকে কিনেছে তারা। ২০১৬ সালের এক ম্যাচে কোভাচিচ লাল কার্ড দেখেন , তারপরও পুরো সিজনে তিনি ৩৪ টি ম্যাচ খেলেন । সিজনের শুরুর দিকে রাফায়েল বেনিতেজ তাকেপ্রায় ম্যাচেই বিভিন্ন পজিশনেই খেলাতেন । সে সময় তিনি মাঝেমাঝে সেন্ট্রাল ,মাঝে মাঝে ওয়াইড পজিশন কিংবা মাঝেমাঝে ইস্কোর পজিশনেও খেলিয়েছেন । চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার পথে ৮ ম্যাচে খেলে মালমোর বিপক্ষে একটি গোলও করেছেন তিনি। সর্বমোট ৩৪ ম্যাচে ১টি গোল করলেই মিডফিল্ডে রেখেছেন অসাধারণ ভূমিকা। জাতীয় দলের হয়ে সর্বমোট ২৯ মায়চে ১ টি গোল আছে এই স্পেশাল মিডফিল্ডারের। ক্রোয়েশিয়া অনুর্ধ ১৭ দলের কোভ মার্টিন নোভোসেলাক রবার্ট প্রোসিনেস্কি কোভাচিচকে তুলনা করে বলেছেন , "I haven't seen a youngster with so much talent since the days of Robert Prosinečki" এই রবার্ট প্রোসিনেস্কি ছিলেন ক্রোয়েশিয়ান মাদ্রিদ সুপারস্টার। ইন্টার মিলান লিজেন্ড বোবান স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন , "He has talents that could make him even better than me, he is an incredibly serious professional for someone his age. Kovačić is a complete player. He is not a born regista but he is playing there now. He is a complete talent that can still grow — he has incredible potential." এছাড়া ইতালিয়ান কোচ জিয়ভানি ট্রাপাত্তোনি কোভাচিচকে কাকা এবং সিডর্ফের মিক্সার বলে উল্লেখ করেছেন । ভালভাবে ব্যাবহার করা গেলে আমাদের জন্য অন্যতম সেরা একজন সুপার সাব হবে মাতেও কোভাচিচ । যে টিমে কোভাচিচের ম্পত ব্যাকাপ সুপার সাব থাকে সে টিমের আর কিসের চিন্তা ?
Comments
Post a Comment