ফুটবলে কাতেনাচ্চিও কাসিও স্ট্র্যাটেজীঃ

★★★ কাতেনাচ্চিও ফুটবল দর্শনঃ
যদি প্রতিপক্ষ গোল করতে না পারে, তাহলে তারা ম্যাচ জিতবে না। কাতেনাচ্চিও হচ্ছে ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজী যেটার আবির্ভাব করেছেন অস্ট্রিয়ান কোচ কার্ল রাপন (Karl Rappan) ১৯৩০ সালের দিকে। ১৯৬০ সালের দিকে এটা জনপ্রিয় হয় যখন আর্জেন্টাইন কোচ হেলেনিও হেরেরা (Helenio Herrera) ইন্টার মিলানের হয়ে ভিন্ন ভিন্ন ট্রফি জেতেন এবং ৬৪ তে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-০ তে হারিয়ে ফাইনালে বেনফিকার বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় নিয়ে ইউরোপীয়ান ট্রফি জিতেন।
এরপর থেকে ইতালির অধিকাংশ ক্লাব এই কাতেনাচ্চিও স্টাইল ফলো করেন। হেরারা যখন ইতালির জাতীয় দলের কোচ হন তখন তিনি ইতালিকে একই স্ট্র্যাটেজী তে খেলান। আর এই কারণেই কাতেনাচ্চিও ইতালিতে এত জনপ্রিয়।
কিন্তু ১৯৮০ দিকে থেকে কাতেনাচ্চিওর পতন শুরু হয় এবং প্রমাণ হয় যে প্রতিপক্ষের অ্যাটাক স্ট্র্যাটেজীর কাছে (যেমনঃ টোটাল ফুটবল) কাতেনাচ্চিও অকার্যকর। তবে যারা ইউরোপে এই স্টাইলে খেলে সফল হয়েছে তাদের মধ্যে কিছু দল এখনো এই স্টাইলেই খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
★★★ কাতেনাচ্চিও যেভাবে কাজ করেঃ
“কাতেনাচ্চিও কাসিও” ইতালিয়ান শব্দ যার অর্থ হচ্ছে Door Bolt বা দরজার হুড়কি। কাতেনাচ্চিও এমন একটি স্ট্র্যাটেজী যা ডিফেন্সে ডিপ লাইন তৈরি করে প্রতিপক্ষকে টাইট মার্কিং করে বাধা দেয়।
সাধারণত ৪-৪-২, ৪-৩-৩, ৪-২-৪, ৪-৪-২ ডায়ামন্ড ফরমেশনগুলো কাতেনাচ্চিওতে রুপান্তরিত হয় যেখানে মিড থেকে একটি প্লেয়ার নিচে এসে ডিফেন্সের সঙ্গে মিলিত হয়। এই পজিশনকে ইতিয়ান ভাষায় লিভারো (Libero) বা ফ্রী (free) বলা হয়। তবে ফুটবলিয় ভাষায় এর নাম সুইপার (Sweeper)।
ঠিক তখন ফরমেশনগুলো ১-৪-৩-২, ১-৪-২-৩, ১-৪-৪-১ এ রুপ ধারণ করে।
কাতেনাচ্চিওতে এই পজিশনের প্লেয়ারের কাজ হচ্ছে দুইটি ডিফেন্সিভ লাইন কভার করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ বন্ধ করা। ডিফেন্সিভ লাইন ও মিডফিল্ড লাইনের মধ্য একটি ভিন্ন লাইন যুক্ত করা হচ্ছে সুইপারের কাজ। প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার মেধাবী হলে তাকে ডাবল মার্কিং করা, প্রতিপক্ষের লুস বল কন্ট্রোল করা, প্রেসিং করে বল ছিনিয়ে নেওয়া সুইপারের কাজ।
কাতেনাচ্চিও স্ট্র্যাটেজির মূলমন্ত্র হচ্ছে সুইপার।
কাতেনাচ্চিও সাধারণত ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজী, তবে এরমানে এই নয় যে তাদের অ্যাটাক স্ট্র্যাটেজী দূর্বল। তাদের অ্যাটাক স্ট্র্যাটেজী খুব দ্রুত আর তাদের থামাতে প্রতিপক্ষের খুব কষ্ট হয়ে যায়।
যদি দলের ডিফেন্স দূর্বল হয় বা ম্যাচের সময় কোনো প্লেয়ারকে লাল কার্ড দেখানো হয় তখন কাতেনাচ্চিও স্ট্র্যাটেজী দলের জন্য খুব প্রয়োজন হয়।
★★★ কাতেনাচ্চিও এর দূর্বল দিকঃ .
>----> এই ধরনের স্ট্র্যাটেজী লিগের জন্য পজিটিভ দিক না। এই ধরনের স্ট্র্যাটেজিতে ড্র করার সম্ভাবনা বেশি।
>----> কাতেনাচ্চিও স্ট্র্যাটেজিতে অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ মনোভাবে প্লেয়াররা এই স্টাইলে খেলার ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলে।
>----> যখন প্রতিপক্ষ টোটাল ফুটবল খেলে তখন সুইপার ম্যান মার্কিং এ কনফিউজ হয়ে যায়। কারণ টোটাল ফুটবলে প্লেয়াররা বিভিন্ন পজিশনে ট্রানজিস্ট হয়ে খেলে। স্ট্রাইকার কখনো মিডফিল্ডেও চলে যায় আর তখন কাতেনাচ্চিও এর ডিপ ডিফেন্সিভ লাইন ব্রেক হয়।
★★★ কাতেনাচ্চিও স্টাইলে সফল যে সকল কোচঃ .
কার্ল রাপন (১৯৩০)
নেরিও রোকো (১৯৪৭)
হেলেনিও হেরেরা (১৯৬০)
হোসে মৌরিনহো (২০০৮)
এন্থোনিও কোন্তে (২০১২) .
বর্তমানে ইতালিতে রোমা, জুভেন্তাস সহ বেশ কিছু দল কাতেনাচ্চিও স্ট্র্যাটেজী কন্টিনিউ ফলো করে যাচ্ছে।

Comments