ডিফেন্সিভ ডায়ামন্ড ম্যাকলেলে (লিজেন্ড)

এমন এক খেলোয়াড় যার নামে একটা পজিশন আছে । আপনারা ফেমাস ক্রুইফ টার্ন এর কথা শুনেছেন নিশ্চয়ই । কিন্তু এটা শুধুই একটা ফুটবলীয় স্কিল যেটাকে ক্রুইফ শিল্পে পরিনত করেছিলো ।কিন্তু একটা পজিশন একটা খেলোয়াড়ের নামে হওয়া মানেই বুঝতে পারছেন তিনি ঐ পজিশনে থেকে কি কি করেছেন ! পজিশনটা কিভাবে ব্যবহার করেছেন ।
হ্যা,আপনারা ঠিকই ধরতে পেরেছেন । আমি দ্য ম্যাকলেলে রোল এর কথাই বলছি । আর এটা সবাই জানেন কে এ রোলের ইনভেন্টর ? দ্য গ্রেট চাইনা ওয়াল ক্লদিও ম্যাকলেলে সিঙ্গা।
এমনিতে মাঠে ১১ জনের মধ্যে সবচেয়ে কম আলোচিত রোল ডিএম পজিশনটা । সেন্টার ব্যাকরা ডিফেন্সিভ ট্রিকারি,ফুলব্যাকরা ওভারল্যাপ করে এটাক করে ,সিএমরা এসিস্ট করে গেম কন্ট্রোলার হয়ে আর গোলকিপাররা অতিমানবীয় কিছু সেভ করে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয় খুব সহজেই । আর ফরোয়ার্ডরাতো এমনিতেই আলোচনার মূল বিষয় হিসেবেই থাকে । কিন্তু ডিফেন্সিব মিডফিল্ডাররা কখনোই লাইম লাইটে আসে না। আর সে রোলে খেলেই ম্যাকলেলে রোলটাকেই তার নামাংকিত করেছেন।মাথায় ডুকছে বিষয়টা? কতটা এফেক্টিভ আর ডমিনেটেড ছিলেন এই রোলে ?তিনি একবার বলেছিলেন “When you play in my position you have to enjoy it. You can’t be thinking I don’t get any goals’. You just enjoy it, you enjoy playing football, tackling, giving the ball. Just enjoy it. When you are small you have to tackle at the right moment. He might be tall, he might be strong but if you tackle at the right moment you’ll win it. It’s about timing.”
তিনি উপভোগ কর্তেন তার খেলাটাকে। এটাই তার সাফল্যের মূল রহস্য ছিল।
ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড রোলটাকে তিনি তার মত করে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন ।ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রোলটাকে নতুন রুপ দিয়ে হয়ে উঠেছিলেন দলের মধ্যমনি ।পজিশন সেন্স,ইনফ্লুয়েন্সিং গেমপ্লে দিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন আর আলোড়িত করেছেন ডিফেন্সিভ মিড রোলটাকে ।
আন্দ্রে জোসেপ ম্যাকলেলের স্বপ্ন ছিলো একদিন বড় ফুটবলার হবেন । খেলেছিলেন কংগো ডি আর আর বেলজিয়ামের ফার্স্ট ডিভিশনে । আর দুরে যাওয়া হয়নি। তার ফুটবল ক্যারিয়ার অতটুকুই। তার ঘরেই জন্ম নেয় ক্লদিও ম্যাকলেলে ।
বাবার স্বপ্ন লালন করে সেই স্বপ্নকে সাকার রুপ দিতেই হয়ত জন্ম নিয়েছিলেন ক্লদিও ম্যাকলেলে । বাবাও ছেলেকে দিয়ে তার স্বপ্ন পূরন করতে চেয়েছিলেন । তাইতো পরিবার নিয়ে তার বাবা পাড়ি জমিয়েছিলেন ইউরোপে ।তখন কি তিনি জানতেন এই ছেলেকে নিয়ে মাতবে পুরো বিশ্ব ।
১৫ বছর বয়সে যোগ দিলেন মেলুনে ।সেখানে প্রতিভার বিকাশ করতে লাগলেন । সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন লিলিয়ান থুরামকে । ১৬ বছর বয়সে পরিবারের মায়া ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার ব্রেস্ট এ । সেখানে কঠোর পরিশ্রম করতে লাগলেন ।আর পরিশ্রম কখনও বৃথা যায় না । তার প্রতিভার আলোর বিচ্ছুরন নান্টেস এর স্পোর্টস ডিরেক্টর রবার্ট বুডজিনস্কির চোখে বিচ্ছুরিত হল। রবার্ট বুডজিনস্কিও সিউর ছিলেন তিনি আরেকজন এমানুয়েল পেতিত পেতে যাচ্ছেন । নান্টেস বি টিমের হয়ে ১২ ম্যাচ খেলে ই টিম ম্যানেজমেন্টকে তার আলোকছটার প্রভাব তাকে নান্টেস মূল টিমে প্রমোশন দিতে বাধ্য করলো অনেকটাই । আর এসেই দলকে জিতালেন ফ্রেন্চ লিগ শিরোপা । এরপর অলিম্পিক ডি মার্শেরই হয়ে যোগ দিলেন স্প্যানিশ লীগের মধ্য সারির টিম সেল্টা ভিগোতে । সেখানে সাক্ষী হলেন ক্লাবের উয়েফা কাপ জয়ের ইতিহাসে । যে শিরোপা জয়ের পথে লিভারপুল আর জুভেন্টাসের মত ফুটবল দৈত্যকে বিস্ফোরিত করে এসেছে । এ সেল্টা ভিগোতেই মূলত তিনি সেই ঐতিহাসিক রোল পালন করা শুরু করেন।
তখনই তার দিকে চোখ পড়ে লস ব্লাংকোসদের । প্রথমদিকে চুক্তিগত সমস্যা থাকলেও শেষপর্যন্ত ২০০০ এ তার গায়ে উঠে সেই সাদা জার্সি । আর এসেই মধ্যমনি হয়ে উঠে ক্লাবের । সেভিওর সাথে জুটি বেধে গড়ে তুললেন দ্য গ্রেট চাইনা ওয়াল । যখন ফিগো ,জিদান ,কার্লোস ,রাউলরা একসাথে এটাকে উঠতো দিশে হারা হয়ে যেতো বিপক্ষ দল । বিপত্তিটা বাধতো দল পজিশন হারালেই ।আর তখনই দেবদূত হয়ে আবির্ভূত হতেন । বল কেড়ে নিতেন আর গেমকে স্লো মুভমেন্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করতেন । আর এটাকিং থার্ডে থাকা খেলোয়াড়দের ট্র্যাক ব্যাকও করতে হত না । কারন তারা জানতেন পিছনে কে আছে । এ সময় থাকতেই ৩ সিজনে চ্যাম্পিয়নস লীগ সহ জিতে ৭টি শিরোপা । মাদ্রিদে যেন এক অদম্য পাগলা ঘোড়া । ৫ বছরে ৩টি চ্যাম্পিয়নস লীগ । পেরেজের বাধ সাধল ।একে একে বিদায় করলেন মরিয়েন্তেস ,ম্যাকনামান ও দেল বস্ক কে । আর তার সাথে দলের হৃদপিন্ড টাকেও।ম্যাকলেলেকে বিদায় করে আনলেন বেকহামকে । তখন জিদান বলেছিলেন ,"Why put another layer of gold on the bentlez when you are losing the entire engine."
একথাটাই প্রমান করে দলে তিনি কতটা মুখ্য ছিলেন। গ্যালাকটিকোস শিবির ছেড়ে যোগ দিলেন অল ব্লুস শিবিরে । রানিয়েরির অধীনে শুরুতে স্ট্রাগল করলেও মরিনহো এসেই তাকে বানিয়ে ফেলছিলেন "২৯ এর ট্রামকার্ড" । চেলসিতে যোগ দিয়েই জিতেন দুটি লীগ শিরোপা সহ আরো ৪ ৪টি শিরোপা । ০৮ এর সিএল ফাইনালে ম্যানইঊ এর কাছে পেনাল্টি শ্যুটাউটে হেরে তার ক্যারিয়ারের সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে ।এরপর যোগ দেন পিএসজিতে ।২০১০ এ ঘোষনা দেন অবসরের। অবসান ঘটে আরেকটি রক্তিম সূর্যের ।
মিডফিল্ড এ এর মাঝে এসেছেন কতজনই ।শোয়ানি,আলোনসো,বুস্ক­েটস ,মাচেরানো ডিএম পজিশনটাকে আলোকিত করেছেন, কিন্তু আরেকজন ম্যাকলেলে কি কখনো আসবে! আসবেনা আর । গ্যালাকটিকোসরা তাকে দলে ভিড়িয়ে গ্যালাকটিকোসদের ঐতিহ্যের পারদ উচু করেছেন। অল ব্লুজরা তার মতো খেলোয়াড় পেয়ে অনেক গর্বিত ।তিনি যা দিয়ে গেছেন ফুটবলকে ।ফুটবল তাকে সে হিসেবে কিছুই দেন নি । তিনি ফুটবল প্রেমীদের মনমাঠে সর্বদা খেলবেন ,গ্যালাক্টিকোস প্রেমীদের মনে সর্বদা খেলবেন,অল ব্লুজদের মনে সর্বদা খেলবেন । আর সেল্টা ,অলিম্পিয়াকোস আর নান্টেস রে চুপিসারে বুক ফুলে উঠবে তাদের দলেও ম্যাকলেলে নামক একজন খেলে গিয়েছিলো বলে।
বেচে থাকুক ম্যাকলেলে ।
Honours
Nantes
§ Ligue 1 : 1994–95
Real Madrid
§ La Liga : 2000–01 , 2002–03
§ Supercopa de España : 2001, 2003
§ UEFA Champions League: 2001–02
§ UEFA Super Cup: 2002
§ Intercontinental Cup: 2002
Chelsea
§ FA Premier League: 2004–05 , 2005–06
§ League Cup: 2004–05 , 2006–07
§ FA Community Shield : 2005
§ FA Cup: 2006–07
Paris-Saint Germain
§ Coupe de France: 2009–10
France
§ FIFA World Cup Runner-up: 2006
Personal Awards
§ FIFPro World XI: 2005
§ UNFP Trophée d'honneur : 2010
Written By: Nabil Rahman on April 15, 2015

Comments