লিজেন্ড হওয়ার গল্প - সেইন্ট ইকার।

A winner whose hard work is based on
humility....

প্রতিদিনের মতো আজও মাঠের পাশে দাড়িয়ে আছে ছেলেটা।প্রতিদিন

ছেলেটা সবার কাছে বলে,"আমাকে খেলাতে নিন।" কেউ পাত্তাই দেয়না কেন যেন। মুষড়ে আলতো কেঁদে উঠে ছেলেটা।নিজেকে সামলিয়ে মন খারাপ করে মাঠের সামনে দাড়িয়ে থাকে।সে বোঝেনা কেন তাকে এভাবে অবজ্ঞা করা হয়।
উচ্চতা কমের কারনে?? একবার সুযোগ দিক না.. দেখিয়ে দেব আমি খেলা বুঝি।পারি খেলতে। ।

এসব ভাবতে ভাবতে পাশ থেকে এক বৃদ্ধ এক মহিলা ডাক দিলেন,"হয়েছে?? যাবে এবার??"
মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলো,না।সে আরও কিছুক্ষন ফুটবল দেখতে চায়।

দিন দুয়েক পরের কথা..
আজও এসেছে ছেলেটা চিরচেনা সেই দাদীর সাথে।মাঠের ডান কোন থেকে হঠাত করে হাত উপরে তুলে এক ছেলে ডাক দিলো তাকে। কাছে এগিয়ে যেতেই,
"তুমি ফুটসাল পারো??দেখো আজ খেলোয়ার কম।সুযোগ দিচ্ছি।দেখি তুমি কেমন পারো"
মাথা খানিক বাঁকা করে মুখের বাম কোনাটায় কেমন যেন একটা হাসি ফুটে উঠলো।
"গোলকীপার থাকতে হবে তোমাকে।বল আটকাতে হবে।পারবা??"
পিছন দিক ফিরে তাকালো দুই লাঠির উপর আরেক লাঠি দিয়ে আটকানো জায়গাটিতে।
এবারও মাথা নেড়ে জবাব দিলো ছেলেটা এবং দৌড়ে চলে গেলো সেই গোলবারের কাছে।

খেলা শুরু হলো।খেলার মাঝেই এক ঘটনা ঘটলো।
একজনের শট নেয়া বল সোজা এসে লাগল ছেলেটার নাকে.. কোথায় নাকে মুখে হাত দিয়ে দৌড়ে পানি দেবে,উল্টো ছেলেটা সে অবস্থাতেই দুই হাত দিয়ে বল ধরে ক্লিয়ার করে দিলো।
দলের খেলোয়াররা খেলা বাদ দিয়ে ছুটে এলো।তখন ছেলেটা বলে উঠলো,"কিছু হয়নি।খেলা চলতে থাকুক।আমি প্রস্তুত "

এতোক্ষন যেই ছেলের কথা বললাম সে আর কেউ না.. আমাদের ক্যাপি,আমাদের সেইন্ট ইকার ক্যাসিয়াস

১৯৮১ সালের ২০ মে মাদ্রিদের মোস্তলেসে জোসে লুইজ ক্যাসিয়াস-মারিয়া দেল কারমেন ফার্নানদেজ গন্জালেস দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে ছেলে। বাবা ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিভিল সার্ভেন্ট আর মা ছিলেন একজন হেয়ার ড্রেসার।

১৯৯০-৯১ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মাদ্রিদে ইউথ অ্যাকাডেমি লা ফেব্রিকা ভর্তি হন ইকার। শুরুথেকেই অসাধারন দ্রুত গতির রিফ্লেক্স,দুই পায়ের অসাধারন শক্তি আর ওয়ান-অন-ওয়ান সিচুয়েশনে আনবিটেবল থাকার ক্ষমতার জন্য তাকে স্পেশাল গোলকিপার হিসেবে ধারনা করা হচ্ছিলো।

প্রথম সুযোগটা ধরা দিলো চ্যাম্পিয়নস লীগের মতো বড় অাসরে।মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে রোজেনবার্গের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে রাখা হয়।

সাল ২০০০... মাত্র ১৯ বছর ৪ দিন বয়সে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়ারের মর্যাদা পান।
পরের সিজনে খারাপ পার্ফরমেন্সের কারণে বেঞ্চে জায়গা হয় ইকারের। ব্যাকআপ গোলকীপার সিজার সানচেজ তার জায়গা দখল করেন।
কিন্তু ২০০২ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে সিজার ইন্জুরিতে পড়ায় ফাইনালে নামার সুযোগ পেয়ে যান ইকার।
বেশকিছু অসাধারন সেভের মাধ্যমে সেই ম্যাচ জিতে দলে জায়গা পাকা করে নেন ক্যাসিয়াস।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ২০০৭-০৮ লীগে ৩৬ ম্যাচে মাত্র ৩২ গোল কনসিড করে রিয়ালের ৩১ তম লীগ জয়ে বড় অবদান রাখেন ইকার।
২০০৮ সালের ভালোবাসা দিবসে ( ) ইকারের সাথে লাইফ টাইম কন্ট্রাক্টে সাইন করে ক্লাব কতৃপক্ষ।
সেবছর ২০০৮ ইউরো কাপ স্পেইন জয় করে বিশ্বকে জানান দেয় তারা আসছে।
এরপর স্পেইনের ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হন ইকার।সেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরষ্কারও মেলে তার হাতে।
এরপর ২০১২ ইউরো কাপও জেতান স্পেইন কে।
এরপরই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে।
রিয়ালের তত্কালীন কোচ মরিনহো তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন বেশ কিছু ম্যাচে।এবং তারপর ২০১৩ সালে কার্লোর ম্যানেজিংয়ে তাকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ম্যাচ গুলোতে দেখা যায়।সেবার রিয়াল তাদের দশম ইউরোপ সেরা ক্লাবের মর্যাদা পায়।
এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড এবং চিলির কাছে বড় ধরনের হার মেনে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে।সমালোচন
া শুরু হয় ইকারকে নিয়ে।
২০১৪-১৫ লা লীগাতেও বেশ কিছু খারাপ ম্যাচ তার দিকে সমালোচনার তীর টা ছুড়তে বাধ্য করে সমর্থকদের।
গুন্জন ওঠে তিনি রিয়াল ছাড়বেন বলে।যদিও তিনি সরাসরি এ ব্যাপারে না করে দিয়েছেন।তবুও কি হয় তা শুধুই দেখার ব্যাপার এখন...

আশাকরি রিয়াল থেকেই মাথা উচু করে বিদায় নেবেন আমাদের ক্যাপি
ঘরের ছেলে রাউল-গুতিদের চোখের জলে বিদায় দিয়েছিলাম... তোমাকেও হয়তো চোখের জলেই বিদায় দিতে হবে ।

আজ তার জন্মদিন।তার জন্য শুভ কামনা রইল। বহুদিন বাঁচুক এবং কোনো সমালোচনার শিকার যেন না হয় তার প্রার্থনা করি

আর হ্যা,২০০৯ সালে আমাদের ক্যাপি স্পোর্টস রিপোর্টার সারা ক্যারাবোনেরোর সাথে রিলেশনশিপে জড়ান
২০১৪ তাদের কোল ভারি করে জন্ম নেয় ফুটফুটে মার্টিন.. মার্টিন ক্যাসিয়াস আশাকরি বাবার মতো বড় হয়ে অনেক নাম কামাও

একনজরে ইকারের অর্জন সমূহ:

#‎Club
Real Madrid

UEFA Champions League : 1999–2000 ,
2001–02 , 2013–14
UEFA Super Cup : 2002 , 2014
Intercontinenta
l Cup: 2002
FIFA Club World Cup: 2014
La Liga : 2000–01 , 2002–03 , 2006–07 ,
2007–08 , 2011–12
Copa del Rey : 2010–11 , 2013–14
Supercopa de España : 2001 , 2003 , 2008 ,
2012

#‎Country

Spain

FIFA World Cup: 2010
UEFA European Championship : 2008 , 2012
#‎Individual
Bravo Award: 2000
UEFA Team of the Year : 2007, 2008, 2009,
2010, 2011, 2012
Zamora Trophy : 2008
FIFA/FIFPro World XI : 2008, 2009, 2010,
2011, 2012
LFP Best Goalkeeper: 2009, 2012
FIFA World Cup Golden Glove: 2010
FIFA World Cup Team of the Tournament :
2010
Best European Goalkeeper : 2010
UEFA Euro Team of the Tournament : 2008,
2012
IFFHS World's Best Goalkeeper: 2008, 2009,
2010, 2011, 2012
#‎Decorations
Gold Medal of the Royal Order of Sporting
Merit : 2009
Favourite son of Navalacruz : 2010
Favourite son of Móstoles : 2010

Comments