মাইকেল লাউড্রপ নামটা অনেকের কাছে অপরিচিত লাগছে বটে আবার অনেকে তাকে সাবেক সোয়ানসি সিটির ম্যানেজার হিসেবেও চিনেন তবে আমার মতে তিনি একজন লিজেন্ড আর তাকে লিজেন্ড বলবইনাবা কেন? তার ক্যারিয়ারটা একনজর দেখলেই হয় --- তিনি এমন একজন প্লেয়ার যিনি আয়াক্স,বার্সেলোনা,রিয়াল মাদ্রিদ,জুভেন্টাসের মত টিমের হয়ে খেলেছেন এবং লিগ শিরোপা জিতেছেন জিতেছেন এমন একটা প্লেয়ারকে লিজেন্ড বলবো না তো কি বলবো আপনারাই বলেই ভাইয়েরা --- এখন আসুন একনজরে তার ক্যরিয়ারের সম্পর্কে কিছু লিখার চেস্টা করি ---
,
,
১৫ জুন ১৯৬৪ সালে ডেনমার্কের ফেডারিখবার্গে জন্ম গ্রহন করেন মাইকেল লাউড্রপ। তার ফুটবলের হতেখড়ি মূলত তার বাবা ফিন লাউড্রপের কাছেই আসলে যেকোন কিছু করতে হলেই তার পরিবারের সাপোর্ট থাকলে সে জীবনে সফল হবেই এর জ্বলন্ত প্রমাণ হচ্ছে মাইকেল লাউড্রপ। তিনি প্রথম তার ক্যারিয়ার শুরু করেন তার বাবার শৈসব কালীন ক্লাব ভ্যানলুস এর হয়ে। এরপর ১৯৭৩ সালে তার বাবা ব্রন্ডলি আইএফ দলের কোচ নিযুক্ত হন এরপর তিনি সেই দলে খেলা চালিয়ে যাওয়া শুরু করেন এরপর তিনি ডেনিষ ১ম বিভাগের দল Københavns Boldklub হয়ে খেলেন ১৯৭৬ সালে।
,
,
ক্লাব ক্যারিয়ার -----
,
,
বার্সেলোনা :
,
,
জুভেন্টাসে একটা খারাপ সিজন কাটানোর পর তিনি বুঝতে পারেন যে এখন তার ক্লাব ছাড়া উচিৎ এরপর তিনি ১৯৮৯ সালে বার্সেলোনাতে যোগদান করেন তার বার্সেলোনাতে যোগদানের একমাএ কারণ ইউহান ক্রইফ তার ছোট বেলার রোল মডেল। ক্রুইফের লিডারশিপে তিনি তার ক্যারিয়ারের মেজর সাকসেস পেতে শুরু করেন। তখনকার বার্সাটিমকে ড্রিম টিম বলা হত এবং তার সেই ধরনের ফুটবল খেলতো যা আয়াক্স খেলতো ১৯৭০ সালে তো মূল কথায় আসি বার্সা সে সময় টানা ৪টা লা লিগা শিরোপা জিতে এবং একটি ইউরোপিয়ান কাপ ও জিতে এসময় দুই বছর বার্সার বেস্ট প্লেয়ার নির্বাচিত হন লাউড্রপ। যখন বার্সা তাদের ৪র্থ বিদেশী প্লেয়ার রোমারিওকে দলে নেয় তখন তার দলে জায়গা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে এবং ১৯৯৪ সারে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে তাকে দলে রাখা হয়না এবং সে ম্যাচে তার ৪-০ গোলে মিলানের কাছে হেরে যায় এরপর তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগদেন যা বার্সা ফ্যান ও প্লেযারদের কাছে চরম হতাশার ছিল।
,
,
,
যাওয়ার আগে লাউড্রপ বলেন --- আমি মনে করি আমরা ভাল ফুটবল খেলেছি, তোমার কাছে বেস্ট টিম থাকতে পারে কারন সবাই বেগরিস্টেইন,বাকেরো,গার্দিওলা,স্টোইচকোভ এদের নিয়া কথা বলে কিন্তুু আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন কেউ সেরা ছিলনা।
,
,
রিয়াল মাদ্রিদ:
,
,
বার্সা ছেড়ে তার রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার ফলে বিশ্ব মিডিয়ায় সারা পড়ে যায় আসলে রাইভাল দলে যোগ দিলে এমন হওয়ারই কথা যাই হোক বার্সা ছেড়ে রিয়ালে যোগ দেওয়ার ফলে তার বার্সা ফ্যান ও বার্সা প্লেয়ার সবাই অখুশি। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পরই তিনি আরেকটা বোমা ফাটান তিনি বলে বসেন বার্সা এই সিজনে আর কোন ট্রফিই জিতবেনা। ক্রুইফের সাথে ঝামেলার কারনেই তিনি রিয়ালে যোগদান করেন এবং বলেন মানুষ বলে আমি বার্সা থেকে রিয়ালে যোগ দিছি তাদের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তবে আমি কেন প্রতিশোধ নিব আমি সেখানে ৫টি সফল সিজন কাটিয়েছি, আমি রিয়াল মাদ্রিদ চাচ্ছিলাম কারন তারা জয়ের ব্যাপারে ক্ষুদার্থ এবং আমরা বর্তমানে নতুন প্লেয়ার নতুন কোচ এবং জযের জন্য ক্ষুাধার্থ।
,
,
এরপর তিনি রিয়ালের হয়ে লা লিগা শিরোপা জয় করেন এবং তিনিই ১ম স্পেনিশ প্লেয়ার যে কিনা টানা পাঁচবার স্পেনিশ লিগ জয় করার সম্মান অর্জন করেন। রিয়ালে দুই সিজন কাটানোর পর তাকে রিয়ালের ১২ তম বেস্ট প্লেয়ার নির্বাচিত করা হয় স্পেনিশ পত্রিকা মার্কার একটি জড়িপে এবং তা ২০০২ সালে প্রকাশ করা হয়।
,
,
তার ব্যাপারে আরো একটি মজার ব্যাপার হল তিনি যখন বার্সাতে ছিলেন তখন বার্সা রিয়ালকে হারায় ৫-০ গোলে কিন্তুু রিয়ালের আসার পর রিয়াল বার্সাকে হারায় ৫-০ গোলে। তিনি রিয়ালের হয়ে ৬২ ম্যাচ খেলে ১২ গোল করেন।
,
,
অবসর গ্রহণ:
,
,
রিয়াল মাদ্রিদ ত্যাগ করার পর তিনি জাপানি ক্লাব Vissel Kobe এর হয়ে খেলা শুরু করেন এবং তিনি জাপানি ফুটবলের একধরনের প্রমোটার হিসেবেও কাজ করেন। তার লাস্ট সিজনে তিনি আয়াক্সের হয়ে ডাচ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন ১৯৯৮ সালে এবং এরপর অবসর গ্রহণ করেন।
,
,
ম্যানেজারিয়াল ক্যারিয়ার ----
,
,
প্রথমে একটি ক্লবে এসিটেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করলেও এরপর তিনি ড্যানিশ সুপারলিগা টিম ব্রন্ডবি এর ম্যানেজারের দাযিত্ব পালন করেন। ব্রন্ডবি এর ম্যানেজারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আস্তে আস্তে সাকসেস পেতে শুরু করেন এবং ২০০২ সালে তার দল ড্যানিশ সুপার কাপ জয় করে ২০০৪-২০০৫ সিজনে তার দল ডাবল জয় করে এরপর ২০০৬ সালে তিনি ব্রন্ডবি ত্যাগ করেন।
,
,
,
এরপর ২০০৭ সালে তিনি গেতাফের মেনেজার হিসেবে নিয়োগ পান এবং এরপর তার দল কোপা দেল রের ফাইনালে হারে বসে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে এরপর ইউয়েফা কাপে তারা বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে যান।
,
এরপর ২০০৮ সালে তিনি স্পারটাক মস্কোর সাথে চুক্তি বদ্ধ হন হাফ ইয়ার কন্ট্রাকে এবং কিছুদিন পর সেখান খেকেও বরখাস্ত হন।
,
,
সোয়ানসি সিটি:
,
আমার মতে তার ম্যানেজেরিয়াল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল অধ্যায় সোয়ানসি সিটি। ১৫ জুন ২০১২ সালে তাকে সোয়ানসি সিটির কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে তার ১ম ম্যাচে ৫-০ গোলে জয় পায় কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স এর সাথে। লাউড্রপের সবচেয়ে ভাল সাইনিং হল মিচু তাকে সোয়ানসি মাত্র ২.৫ মিলিযন দিয়ে কিনে এবং সে সেই সিজনে ১৪ গোল করেন। লিগ কাপ ফাইনালে তার দল চেলসির বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পায় তাও আবার চেরসির মাঠেই যা ছিল অবিশ্বাস্য কারন তখন চেলসি ছিল ইউরোপান চ্যাম্পিয়ন। এরপর সোযানসি সিটি ব্রাডফোর্ড সিটিকে ৫-০ গোলে হারিয়ে লিগ কাপ জয় করে তা ক্লাবের ১০০ বছরের ইতিহাসে ১ম কোন মেজর শিরোপা।
,
,
বর্তমানে তিনি Lekhwiya নামের একটি দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত আছেন।
,
,
যে যাই বলুকনা কেন লাউড্রপ আমার কাছে সবসময় হিরো ছিল,আছে এবং থাকবে।
,
,
রিয়াল মাদ্রিদকে ভালবাসি
মাদ্রিদিস্তা আমরা বাংলাদেশি
Written by: অর্থহীন তনু
Comments
Post a Comment