আজ বলবো পৃথিবীর অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ফ্রাঙ্ক পুসকাস সম্পর্কে। যে কিনা একসময় গোটা বিশ্বকে শাসন করেছে। তার নামেই এখন পুসকাস এওয়ার্ড দেওয়া হয়। জি হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন ইনিই হলেন সেই পুসকাস। যাকে সর্বকালের সেরা প্লেয়ারদের মধ্যে একজন হিসেবে ধরা হয়। পুসকাস এমন এক ব্যক্তি যিনি তার জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল করেন এবং হাঙ্গেরি এবং স্পেনিশ লিগে মোট ৫২৯ ম্যাচে ৫১৪ গোল করেন। এই সমীকরণ দেখেই বোঝাযায় এই মানুষটি কত বড় মাপের একজন খেলোয়ার ছিলেন আমার মতে তাকে সর্বকালের সেরা প্লেয়ার বললেও ভুল হবেনা। ফ্রাঙ্ক পুসকাস সম্পর্কে আর কি বলবো এই মানুষটিই ১৯৫২ সালে তার দলকে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন করেন এবং ১৯৫৪ সালে তারদলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যান এবং সে আসরের সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হন। একটা প্লেয়ারকে সেরা বলতে এর চেয়ে আর বেশি কি লাগে কিন্তুু তার সম্পর্কে বলতে গেলে এটাতো কেবল শুরু করলাম পুরো ফিল্মটাই তো এখনো বাকি আছে বন্ধুরা। এরপর পুসকাস তিনবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন [১৯৫৯,১৯৬০,১৯৬৬]
পুসকাস তার ক্যারিয়ার শুরু করেন হাঙ্গেরিয়ান টিম কিসপেস্ট এবং বুডাপেস্ট হনভেড এর হয়ে। ১৯৪৮ সালে তিনি ইউরোপের মধ্যে টপ স্কোরার হন। ১৯৫০ সালে তিনি তখনকার উড়তে থাকা হাঙ্গেরিয়ান টিমের ক্যাপটেন নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি স্পেিনে চলে আসেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করেন।
- রিয়াল মাদ্রিদঃ
প্রথমে তিনি হাঙ্গেরিতে ফিরে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং তিনি আরসিডি এসপেনিওলের হয়ে কয়েকটি আনঅফিসিয়াল ম্যাচ খেলেন। এরপর তাকে ইটালিয়ান ক্লাব এসি মিলান এবং জুভেন্টাস সাইন করাতে চায়। কিন্তুু বুডাপেস্টে ফিরে যেতে অস্বীকার কারার কারনে তাকে দুই বছরের জন্য ব্যান করে ইউয়েফা। মূলত এই ব্যানটাই তাকে ইউরোপে খেলার জন্য আগ্রহ্য যোগায়। এরপর তিনি অস্টিয়া ও ইতালিতে যান। তার ব্যান শেষ হওয়ার পরে তিনি চান ইতালিতে খেলতে কিন্তুু তিনি বড় কোন টিম পাননা। এরপর তিনি ম্যানইউর রিজার্ভ টিমের সদস্য থাকেন কিন্তুু ভাল মত ইংরেজি না বলতে পারার কারনে তাকে কোচ সাইন করায়না। এর কিছুমাস পরে ৩১ বছর বয়সে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নাম লেখান। এরপর শুরু হয় পুসকাসের কারিশমা। নিজের ১ম লা লীগা সিজনে ৪ টি হ্যাটট্রিক করেন পুসকাস। এ ঘটনায় সবাই অবাক হয়ে যায় কারণ তার ওজন একটু বেশি ছিল। এরপর এলচের বিপক্ষে একটি ম্যাচে তিনি ৪টি গোল করেন। এরপর এই এলচের বিপক্ষেই তিনি ৫ গোল করেন। ১৯৬৩ সালে পুসকাস বার্সেলোনার বিপক্ষে ২টি হ্যাটট্রিক করেন যা ভুলার মত না। রিয়ালের হয়ে ৮ সিজনে ১৫৬ ম্যাচে ১৮০ গোল করেন পুসকাস এবং তিনি টানা ২০ সিজন ২০+ গোল করেন যা ছিল সিম্পলি আমেইজিং।এরপর পুস্কাস চারবার পিসিসি এওয়ার্ড জিতেন পুস্কাস [১৯৬০,১৯৬১,১৯৬৩,১৯৬৪] এই সিজন গুলাতে তিনি যথাক্রমে ২৬,২৭,২৬,২০ গোল করেন যাছিল অসাধারণ। রিয়ালের হয়ে তিনি টানা ৫ লা লীগা জিতেন [১৯৬১-১৯৬৫] এটাই হল রিয়ালের স্বর্ণযুগ। এরমধ্যে তিনি কোপা দেল জেনারেলিমো জিতেন ১৯৬২ সালে। সেই ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে তিনি ২ গোল করেন। পুস্কাস রিয়ালের হয়ে ইউরোপিয়ান কাপে ৩৯ ম্যাচ খেলে ৩৫ গোল করেন। তিনি রিয়ালকে ১৯৫৯ সালের ইউরোপিয়ান ফাইনালে উঠতেও সাহায্য করেন। কিন্তুু ইনজুরির কারনে তিনি ফাইনাল মিস করেন। এরপর তিনি ফ্রাঙ্ক ফুট এর সাথে ম্যাচে একাই চার গোল করেন। এরপর তিনি রিয়ালকে ১৯৬৬ সালের ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে উঠতেও সাহায্য করে কিন্তুু তিনি ফাইনাল খেলতে পারেননা।
- স্প্যানিশ ন্যাশনাল টিমঃ
১৯৫২ সালে তিনি স্পেনের জাতীয়তা লাভ করেন এবং তিনি স্পেনের হয়ে ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ খেলেন এবং একটিও গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি দক্ষিণ লিভারপুলের হয়ে নিজের ৪০ বছর বয়সে একটি চ্যারিটি ম্যাচ খেলেন।
- কোচিং ক্যারিয়ারঃ
ফুটবল থেকে অবসর গ্রহনের পর তিনি ইউরোপ,উওর আমেরিকা,দক্ষিণ আফ্রিকা,আফ্রিকা,এশিয়ার বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হন।
১৯৭১ সালে তিন গ্রীসের ক্লাব প্যানাথেনআইকস ক্লাবকে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে তোলেন। ফাইনালে যাওয়ার পথে তারা এভারটের মত দলকে হারায়। প্যানাথেনআইকসের সাথে তিনি চারবছর কাটান এবং ১৯৭২ সালে তারদলকে গ্রীক চ্যাম্পিয়নশিপ জিতান। ১৯৯৩ সালে তিনি হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল টিমের চার্জ নেন মাএ চার ম্যাচের জন্য।
এভাবেই তার কোচিং ক্যারিয়ার শেষ হয়।
আসলে ফুটবলে পুস্কাসের অবদান অবিস্বরনীয় যা বলে শেষ করা যাবেনা তবে একটা কথাই বলবো পুস্কাসকে সর্বকালের সেরা প্লেয়ার বললেও ভুল হবেনা।
Written by: অর্থহীন মানুষ
Comments
Post a Comment